খুলনা, বাংলাদেশ | |

Breaking News

  রিজভীর সঙ্গে মিতুলের সৌজন্য সাক্ষাৎ, আড়ংঘাটার নানা সমস্যা তুলে ধরলেন।
  আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে কেশবপুরে র‍্যালি ও আলোচনা সভা
  নিরাপদ খুলনা চাই-এর উন্নয়নমূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
  ছবি আছে গ্রামীন ঐতিহ্যের চিরচেনা খেলাধুলা বিলুপ্ত ঈদগাঁওতে 
  বিকেএসপিতে ডাক পেল ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামপুরের ক্ষুদে ফুটবলার জিদান
  ডুমুরিয়ার খর্নিয়ায় গণসংযোগ ও কুশল বিনিময় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শেখ শাহিনুর রহমান শাহিনের
  ফলোআপ ইসলামাবাদ থেকে চুরি হওয়া গরু দুইটি উদ্বার
  খুলনায় বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব খুলনা মহানগর শাখার ৪৫ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠিত
  ডুমুরিয়া খর্নিয়ায় মামলা-হামলার প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ
  খুলনায় ইউপি নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে।চেয়ারম্যান প্রার্থী মতলেবুর রহমান মিতুল এর উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত।

বজ্রপাতে যুবকের প্রাণহানি: মাছ শিকারের নেশা নিয়ে গেলো সাইফুলের জীবন

[ccfic]
[cox_photocard_button]

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নে শোকের ছায়া পড়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে আকস্মিক ঝড়োবৃষ্টির সাথে বজ্রপাতে একজন যুবকের মৃত্যু ঘটেছে, যার ফলে তার পরিবার অনাথ হয়ে পড়েছে। নিহত সাইফুল ইসলাম (৩৫) ছিলেন আ. মজিদের পুত্র এবং হাতিলেইট বুড়ার বাজার এলাকার বাসিন্দা। পেশায় ভ্যান চালক সাইফুল হতদরিদ্রতায় দিন কাটাতেন, কিন্তু মাছ ধরা ছিল তার বড় נেশা। এই নেশাই শেষ পর্যন্ত তার প্রাণ নিল।

ভোর থেকে বিলে, দুপুরে বজ্রের আঘাত

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোরে সাইফুল বর্ষি নিয়ে বাড়ি থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার মোমিনপুর আঠারোচূড়া বিলে মাছ শিকার করতে যান। সকাল 내내 মাছ ধরতেন তিনি। কিন্তু দুপুরের দিকে আকস্মিকভাবে মৌসুম বদলায়। ঘন ঘন মেঘ জমে ওঠে এবং ঝড়োবৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে সাইফুল বিলের কিনারায় আশ্রয় নেন, কিন্তু নির্জন স্থানে একা থাকা তার জন্য প্রাণঘাতী সাবিত হল। হঠাৎ একটি বজ্রপাত তার শরীরে আঘাত করে এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়ে যায়।

পরিবারের একমাত্র আশ্রয়দাতা ছিলেন সাইফুল

প্রতিবেশী হাসমত আলী বলেন, “সাইফুল খুব মেধাবী ও কামী মানুষ ছিলেন। ভ্যান চালিয়ে যেভাবে পারিবারিক খরচ চালাতেন, সেটা সবাই জানতেন। মাছ ধরা ছিল তার একমাত্র বিনোদন। আজ তার স্ত্রী ৮ মাসের গর্ভবতী, ৪ বছর বয়সি একটা ছেলে আছে। এখন তাদের কে দেবে আশ্রয়?”

সাইফুলের মৃত্যুর খবর পাওয়া মাত্রেই গ্রামে শোকের লহর ছাড়িয়ে দিল। তার লাশ বাড়িতে আনার পরপরই স্বজনদের করুণ কান্নায় গ্রামবাসীরা অস্থির হয়ে উঠল। স্ত্রীর কান্না থেমে নেই, ছোট ছেলে বাবার মৃত্যুর কথা বুঝতে পারছেন না। পূরবaparিবারের একমাত্র আয়ের উৎস ছিল সাইফুল, তাই এই আঘাত তাদের জন্য অসহনীয়।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তার আশ্বাস

ফুলবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও শহীদুল ইসলাম সোহাগ ঘটনাটির বিষয়ে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, “এই ঘটনা খুবই দুঃখজনক। নিহতের পরিবারকে সরকারি সহায়তা দিতে উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত করা হচ্ছে।” উপজেলা প্রশাসন পক্ষ থেকে নিহতের স্বজনদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

বর্ষাকালে বজ্রপাত: সতর্কতায় বাঁচানো যায় জীবন

বাংলাদেশে প্রতি বছর বর্ষাকালে বজ্রপাতে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারান। গ্রামীণ অঞ্চলে খামারের কাজ বা মাছ শিকার করার সময় বজ্রপাতের আশঙ্কা বেশি থাকে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, ঝড়োবৃষ্টি শুরু হলে খোলা মায়দান, বিল, নদীর কিনারা বা গাছের নিচে থাকা উচিত নয়। ধাতুর বস্তু বা মোবাইল ফোন ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা উচিত। গত দিনে খুলনা ডুমুরিয়ায় ভারী বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছিল, সেই সময়ও বজ্রপাতের ঘটনা ঘटीয়েছিল।

সরকারি সহায়তা ও সামাজিক দায়িত্ব

সাইফুলের মতো নিখুঁত গরিব পরিবারের জন্য সরকারি সহায়তা অত্যন্ত জরুরি। আপনোদর সহায়তা, বীমা বা অন্য কোনো স্কিমের অধীনে তাদের ত্বরিত সহায়তা দিয়ে তাদের জীবন যাপন সহজ করা উচিত। সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণও এই পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পারেন। আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের পাশে সরকার দাঁড়িয়েছে এমন উদাহরণ আছে, সাইফুলের পরিবারের জন্যও এরকম উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

এই হৃদয়বিদারক ঘটনা আমাদের সতর্ক করে তোলে — প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে মানুষ কতটা আশ্রয়হীন। সাইফুল আর নেই, কিন্তু তার স্ত্রী ও ছেলের ভবিষ্যত নিরাপদ রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব।

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 ichamotinews .com

Developed By: ShimantoIT